এনবিআরের বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো

দেড় মাসে সার্টিফিকেট লাইসেন্স ও পারমিটের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে

আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করতে শুল্কসংক্রান্ত সংস্থাগুলোকে অনলাইনে এক জায়গায় আনতে গত ২ জানুয়ারি চালু করা হয় বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) পদ্ধতি।

আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করতে শুল্কসংক্রান্ত সংস্থাগুলোকে অনলাইনে এক জায়গায় আনতে গত ২ জানুয়ারি চালু করা হয় বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) পদ্ধতি। এর মাত্র ১ মাস ১৭ দিনের মধ্যে এই বিএসডব্লিউ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমদানি-রফতানি পণ্যচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক লাখের বেশি সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট (সিএলপি) দেয়া হয়েছে। আট বছর আগে হাতে নেয়া এ প্রকল্পের আংশিক বাস্তবায়ন করার দেড় মাসের মাথায় এ তথ্য দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্প পরিচালক জুয়েল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বলা হয়, ‘‌এনবিআর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো পদ্ধতি থেকে এরই মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু করা সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিটের (সিএলপি) সংখ্যা এক লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।’

এ প্রকল্পের আওতায় ১৯টি সংস্থাকে একটি প্লাটফর্মে আনার কথা। তবে শুরুতে বিএসডব্লিউর আওতায় আসা সাতটি সংস্থা হলো পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বিস্ফোরক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল উইপনস কনভেনশন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। এর আগে গত ২ জানুয়ারি এ প্রকল্পের আংশিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘‌আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আমদানি-রফতানি পণ্যচালান শুল্কায়নের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ১২টি সংস্থাও এ পদ্ধতিতে অনলাইনে সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট দিতে সক্ষম হবে বলে এনবিআর আশা করছে।’

ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্প পরিচালক জুয়েল আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌অবশিষ্ট ১২টি সংস্থারও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ প্লাটফর্মে যুক্ত হবে। আগামী ১ মার্চ থেকে আমদানি-রফতানি পণ্যচালান শুল্কায়নের ক্ষেত্রে অন্য সংস্থাগুলোর সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট বিএসডব্লিউ সিস্টেম থেকে দেয়া সম্ভব হবে।’

এ ব্যবস্থায় একটি প্লাটফর্মে আমদানি-রফতানি পণ্যের জন্য প্রযোজ্য সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট (সিএলপি) সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মাধ্যমে যুগপৎভাবে অনলাইনে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। সরকারি কাজে ব্যক্তিগত যোগাযোগ দরকার না হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে। পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে। দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিএসডব্লিউ সিস্টেম সহায়তা করছে বলে ভাষ্য এনবিআরের।

২০১৭ সালে এনবিআর ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্প চালু করে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন থেকে এটি বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো নামে পরিচিতি পাবে। বলা হচ্ছে, কর ফাঁকি রোধেও এ প্লাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্টে (টিএফএ) স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। চুক্তির ১০ দশমিক ৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সব সদস্যরাষ্ট্র সিঙ্গেল উইন্ডো স্থাপনের প্রচেষ্টা নেবে।’ এ পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় ২০১৭ সালে প্রকল্পটি নেয়া হয়। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৮টি দপ্তরের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হয়।

মূলত দুটি সিস্টেমের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাটি সচল থাকবে। একটি বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ), অপরটি অ্যাডভান্সড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এআরএমএস)। আমদানিকারক ও রফতানিকারকরা বিএসডব্লিউর মাধ্যমে নিজের কাঙ্ক্ষিত সেবার আবেদন করবেন এবং এআরএমএসের মাধ্যমে যেকোনো সহায়তা নিতে পারবেন।

আরও